Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

সাড়ে ৬ বছর পর ফিরে এলো বগুড়ায় গুম হওয়া শামীম, সোয়া ৯ মাস হাজত খাটলো আইজার

মাহফুজ মণ্ডল / ৭৬৭
সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: অপহরণ ও গুম হওয়া শামীম নামে এক যুবক ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর পর নিজ এলাকায় ফিরে আসার অভিযোগ উঠেছে। আজ ৯ আগষ্ট সোমবার দুপুরে বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। বগুড়া সদর উপজেলার মানিকচক বন্দর এলাকা থেকে তাকে আজ আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কথিত অপহরণ ও হত্যার শিকার শামীমের মা ঝর্ণা বেগমের দায়ের করা মামলায় আইজার ওরফে আজিজার ৯ মাস ১৩ দিন হাজতে ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ২৫ মে ২০১৬ তারিখে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

বগুড়া সদর উপজেলার মানিকচক বাজার এলাকার মৃত ধলু প্রাং এর পুত্র আজিজার রহমান জানান, ঝর্ণা বেগমের দায়ের করা অপহরণের মামলায় তিনি এতোদিন হাজতে ছিলেন। তিনি আরও জানান, আমাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ দুই দফায় দুই দিন করে চারদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমাকে ম্যাজিষ্ট্রেট এর কাছে বলতে বলা হয়েছিল, ‘আমি শামীমকে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করেছি। কিন্তু আমি মিথ্যা না বলে সত্যটাই বলে গেছি’। ‘পুলিশকে রিমান্ডের সময় বলেছিলাম, আমি সত্য কথা বলে যাবো, তাতে যদি আমার মৃত্যুও হয় তা মেনে নেব’।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বগুড়া সদরের কর্ণপূর উত্তরপাড়ার মৃত মোগলা সরদারের কন্যা ঝর্ণা বেগম ১২ আগস্ট ২০১৫ তারিখ বগুড়া সদর থানায় তার পুত্র শামীমকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন আজিজার ও তার সঙ্গীরা ১৮ ফেব্রæয়ারী ২০১৫ তারিখে বাদীর ছেলে শামীমকে অপহরণ করে গুম করে রেখেছে।

বগুড়া সদর থানার তৎকালীন ওসি আবুল বাশার মামলাটির তদন্তভার দেন নারুলী ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাইফুল ইসলামকে। এস আই সাইফুল ইসলাম আসামীকে সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আসামী আজিজার রহমান বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার না করলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সাইফুল ইসলাম ২০ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, আসামী আজিজুর রহমান ও তার তিনজন সঙ্গী ভিকটিম শামীমের মুখ ও হাত বেঁধে দক্ষিণ কদিমপাড়া ডাঙ্গায় নিয়ে যায়। তারা শামীমকে ব্রীজের পাশে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মাথায়, বুকে, গলায় ও কিডনির পাশে মারপিট করে মেরে ফেলে। তিনজন মিলে ডাঙ্গার ভিতরে নিয়ে গিয়ে কাদার ভিতর পুঁতে রেখে গুম করে ফেলে। পুলিশ বিজ্ঞ আদালতকে আরো জানিয়েছে, আসামীরা লাশের চিহ্ন নষ্ট করে ফেলার জন্য ঘটনার দুই মাস পর ডাঙ্গার কচুরিপানা উঠিয়ে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিয়ে মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। ফলে অপহৃত শামীমের দেহাবশেষ এর কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এস আই সাইফুল ইসলামের বদলীজনিত কারণে মামলাটির তদন্তভার পড়ে নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মিলাদুন্নবীর উপর। তিনি তদন্তভার গ্রহন করে পুনরায় আসামী আজিজার রহমানকে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আজিজার রহমান বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী না দিলেও একইভাবে এস আই মিলাদুন্নবীও আগের তদন্তকারী কর্মকর্তার মতোই ভিকটিম শামীমকে অপহরণ ও হত্যার করে লাশ গুমের বর্ণনা দিয়ে ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতকে ঘটনা অবহিত করেন এবং আজিজার রহমানকে উক্ত অপরহরণ মামলায় দÐবিধি ৩৬৪ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আসামী আজিজারকে অভিযুক্ত করে বিচারের নিমিত্তে ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ ৯৩৩ নং অভিযোগপত্র দাখিল করেন। উক্ত মামলা বর্তমানে বিজ্ঞ দায়রা আদালতে বিচারাধিন রয়েছে। যার নং ১৯৪৫/১৬ দায়রা।

এ ঘটনার দীর্ঘদিন পর আজ সোমবার দুপুরে মামলার ভিকটিম ঝর্ণা বেগমের পুত্র শামীম স্বশরীরে, সুস্থ অবস্থায় এলাকায় ফিরে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী আজিজার জানান, কথিত ভিকটিম শামীম দীর্ঘদিন বিদেশে গিয়ে আগ্মগোপন করেছিল। তার সাথে বাদী ঝর্ণা বেগমের নিয়মিত ফোনে কর্থাবার্তা চলছিল। এ বিষয়ে আমার পরিবার বহুবার পুলিশকে তথ্য দিলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তা কর্ণপাত করেনি। আজিজার জানান, ঝর্ণা বেগমের মিথ্যা মামলায় শারীরিক, মানুষিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট ন্যায় বিচার দাবী করেছেন। অপরদিকে, অপহরণ মামলার বাদী ঝর্ণা বেগম জানিয়েছেন, তার পুত্র শামীম অপহরণের ঘটনা সত্য। আসামী আজিজার জামিনে মুক্তি পাবার পর থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারী আমার ছেলে আসামীর কবল থেকে বাড়িতে ফিরে আসলে আইজার প্রার্থক হয়ে আমি, আমার দুই ভাই ও আমার ছেলে শামীমকে প্রতিপক্ষ করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১০৭/১১৭ ধারায় জেলা বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ‘ক’ অঞ্চল আদালতে একটি মামলা মোকদ্দমা দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় আমরা সন্তোষজনক জবাব প্রদান করে অব্যাহতি পেয়েছি।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সেলিম রেজা জানান, ঘটনাটি অত্যন্তু দু:খজনক। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com