Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

এসপি’র নামে দুই কোটি টাকা চাঁদাদাবী অভিযোগে বগুড়া ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

মাহফুজ মন্ডল / ১৫৮২
রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়াঃ এসপি সাহেব বগুড়া থেকে বিদায় নিচ্ছেন এজন্য দুই কোটি টাকা দাবী করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে বগুড়া থেকে (শাস্তিমূলক বদলী) বিদায় করে দেয়া হয়েছে। এদের একজন হলেন, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সাইবার ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন এবং একই ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শওকত আলম। এদের মধ্যে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) শওকত আলমকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনকে রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়।

রোববার (২৫ জুলাই) বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানাগেছে, চলতি বছরের ২৭ মে বগুড়া সদরের শিকারপুর গ্রামে মাস্টার বিড়ি ফ্যাক্টরিতে যান বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ফ্যাক্টরির গোডাউনে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল মজুদ আছে মর্মে মাস্টার বিড়ির স্বত্বাধিকারী হেলালকে ডেকে আনেন। গোডাউন খোলার পর বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডরোল পাওয়া গেলেও হেলাল দাবি করেন সেগুলো বৈধ। কিন্তু ডিবি পুলিশের কথা ব্যান্ডরোলসহ হেলালকে ডিবি অফিসে যেতে হবে। একপর্যায়ে ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তা হেলালের সাথে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জানানো হয় এসপি সাহেবের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান হয়েছে। এসপি সাহেবকে ম্যানেজ না করতে পারলে ব্যান্ডরোলসহ হেলালের নামে মামলা দিতে হবে। এসপি সাহেবসহ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ২ কোটি টাকা দাবি করা হয় । একপর্যায়ে ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় হেলাল। যার ১০ লাখ টাকা ওই দিন দিতে হবে এবং বাকি ১৫ লাখ টাকা এক সপ্তাহ পরে দিবে। হেলাল ৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওই রাতেই তাদের হাতে দেন।

অবশিষ্ট ১৬ লাখ টাকা না দিয়ে হেলাল তালবাহানা করে জুন মাস পার করেন। জুলাই মাসের ১১ তারিখে বগুড়ার এসপি আলী আশরাফ ভুঞা’র বদলির আদেশ হয়। এসপি সাহেব চলে যাচ্ছেন তাকে টাকা দিতে হবে মর্মে হেলালকে চাপ দিতে থাকেন বরখাস্তকৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তা। হেলাল তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ১৩ জুলাই বিষয়টি এসপিকে অবহিত করেন। এসপি তাৎক্ষণিক হেলালকে অফিসে ডেকে আনেন। বিস্তারিত শুনেন এবং হেলালের কাছ থেকে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। অভিযোগের পর ১৪ জুলাই সন্ধ্যার পর হেলালকে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেন তারা।

পরদিন অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসাশন) আলী হায়দার চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন পুলিশ সুপার।

এঘটনার পর পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন ও এস আই শওকত বগুড়া জেলা থেকে বদলির আবেদন করেন।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com