Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

বগুড়ায় করোনা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

মাহফুজ মন্ডল, উত্তারাঞ্চল ব্যুরো প্রধান / ৭৭
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান, ডিবিসি বাংলা নিউজ ডট কমঃ বগুড়ার দুটি সরকারী হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি করাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকচারীরাও। রোগীর চাপে নতুন করে ভর্তি করাতে অপারগতা প্রকাশ করছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার সরকারী মোহাম্মদ আলী ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে হাসপাতাল দুটিতে নির্ধাতির বেডের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করানো হয়েছে। সে কারণে নতুন করে রোগী ভর্তি করাতে চাচ্ছেন না তারা।

বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেছেন, করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাদের অনেকেই পুরোপুরি সুস্থ হননি। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৫০ শয্যার বগুড়া সরকারী মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ২৭৮ জন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতালে ২৭৮ জন করোনা রোগী ভর্তি থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে ২০০ শয্যায়। হাসপাতালে ১৯টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা থাকলেও চালু আছে ১৫টি। আর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা সংখ্যা আটটি। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শফিক আমিন কাজল বলেন, রোগী বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কোন রোগীকে ছাড়পত্র না নিলে অন্য কাউকে ভর্তি করানো যাচ্ছে না।
রোগীর চাপ বেড়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা রোগীর বেডের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫০ শয্যা করা হলেও করোনা রোগী আসছে বন্যার স্রোতের মতো। এখানে ভর্তি হওয়া কয়েকজন করোনা রোগীদের স্বজন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পুরোপুরি সুস্থ না হতেই এবং করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের অন্যরাও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

নেগেটিভ না হলেও অনেক রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে স্বীকার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ২৫৭ রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মাসে ১২দিনে করোনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮২৬ জনের। প্রতিদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে গড়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের বেশি মানুষ। গড়ে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৩৬ জন। তথ্যমতে, বগুড়ায় চলতি বছরের জুন মাসে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুন মাসে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ জনের। জুন মাসে করোনায় গড়ে মৃত্যু হয়েছে দুইজন।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার দুটি সরকারী ও একটি বেসরকারী মোট তিনটি হাসপাতালে ১০১৮টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৩২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১৪ জন।

বগুড়ার বিশিষ্ট চিকিৎকরা জানিয়েছেন, জনসাধারণের সচেতনা বৃদ্ধি করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এজন্য বগুড়া ও আশপাশের জেলাগুলোর মানুষদের সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই সাথে মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক বলে তারা জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com