Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

বগুড়ার জনসাধারণের মূল্যবান রেজি: দলিল অযত্ন অবহেলায় রাখার অভিযোগ

মাহফুজ মন্ডল, উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান: / ১১৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মাহফুজ মন্ডল, উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান: নকশা পরিবর্তন করে অপরিকল্পিতভাবে ধারন ক্ষমতার নিচে বগুড়ায় জেলা রেজিস্ট্রার এর কার্যালয় নির্মাণ কার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বগুড়াবাসীর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের অতিব গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র, দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণের একমাত্র প্রতিষ্ঠান এটি। মহাপরিকল্পনা ছাড়া ভবনটি নির্মাণ করা হলে বগুড়াবাসীর অপুরণীয় ক্ষতি হবে, যা পুরণ করার সাধ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাই।

বগুড়াবাসী প্রতি বছর জমি রেজিস্ট্রেশন করে শ’ শ’ কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে থাকে। প্রায় সোয়া ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন চারতলা বিশিষ্ট এই ভবনের কোথাও সাধারণ জনসাধারণের বসবার ব্যবস্থা করা হয়নি। ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামত যখন নকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল তখনও তারা ভেবে দেখেননি জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত হাজার হাজার দলিলের ক্রেতা ও বিক্রেতারা কোথায় বসে তাদের দলিল লিখবেন বা সম্পাদন করবেন।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার যেহেতু মহাফেজ খানা (রেকর্ডরুম) এর দায়িত্বে থাকেন সে কারণে সদর সাব-রেজিস্ট্রার এর কার্যক্রম জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হয়ে থাকে। তথ্যমতে, নির্মিতব্য ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৫২৭৩ বর্গফুট জায়গায় সদর সাব রেজিস্ট্রার এর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হবে। তৃতীয়তলা ৩০৫০ বর্গফুট জয়গা ব্যবহার হবে জেলা রেজিস্ট্রার এর কার্যালয়। চতুর্থতলায় ৫০৭৫ বর্গফুট জায়গা রাখা হয়েছে নকলনবিশগণের জন্য। নিচতলায় কয়েকটি শৌচাগার, গ্যারেজ ও জনসাধারণের বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু দলিল লেখকগণ কোথায় বসে দলিল লিখবেন এবং ক্রেতাবিক্রেতাদের দলিল সম্পাদন করবেন তার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি এই ভবনের কোথাও। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দেড় শতাধিক দলিল লেখক।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, মহাফেজখানায় ১৮৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষ বালাম বহি সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও অপ্রস্তুতকৃত বালাম এবং ইনডেক্স বইও রয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ। জেলার মহাফেজখানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বগুড়ার অন্যান্য ১১টি উপজেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে সংরক্ষণ বিধি না মেনেই বালাম বহিগুলো স্তুপাকারে রাখা হচ্ছে। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, অপরিকল্পিতভাবে জেলা রেজিস্ট্রার এর যে ভবন নির্মান করা হচ্ছে তাতে জেলা সদরের অর্ধেক বালাম বহি সংরক্ষণই দুষ্কর হবে। রেজিস্ট্রেশন আইনে উপজেলা পর্যায়ের রেজিস্ট্রেশনকৃত দলিলের বালাম বহি জেলা মহাফেজখানায় সংরক্ষিত রাখার কথা। উপজেলা পর্যায়ের লাখ লাখ বালাম বহি কোথায় সংরক্ষণ করা হবে, এ বিষয়ে সদুত্তোর দিতে পারেননি কেহই। জনসাধারণের অতিব জনগুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ সংরক্ষণের জন্য মহাফেজখানা চারতলা উচ্চতা বিশিষ্ট ছাদবিহিন করার কথা থাকলেও নির্মিতব্য ভবনটিতে তা দেখা যাচ্ছে না। বগুড়ার ১২ উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষ বালাম বহি সংরক্ষণের জন্য অনতিবিলম্বে পরিকল্পিত রেকর্ডররুম নির্মাণ করা জরুরী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। সরকারকে যথাযথ কর দিয়ে জনসাধারণ তাদের দলিল রেজিস্ট্রেশন করে থাকলেও উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার অফিসগুলোতে ২০ বছর ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে জনসাধারণের আমানত জমি কেনা বেচার মহামূল্যবান দলিল দস্তাবেজ। অযত্ন আর অবহেলায় থাকার কারণে জনসাধারণের মহামূল্যবান এ সম্পদ নষ্টের উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
বর্তমানে যে ভাড়া ভবনে জেলা রেজিস্ট্রার তার কার্যক্রম চালাচ্ছেন সেখানে গাদাগাদি করে বালাম বহি রাখা হয়েছে। যেখানে বালাম বহির কোন নিরাপত্তা নেই। যে কোন সময় দুর্ঘটনার সম্ভবনা রয়েছে বলে অফিসের লোকজন জানান। সদর ও উপজেলা পর্যায়ে রক্ষিত বালাম বহিগুলো অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে জনসাধাণের আমানত। যদি বালাম বহি ধংস হয়ে যায় তাহলে বগুড়াবাসীর অপুরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।
বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সদর ও জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস বাদে যে জায়গা অবশিষ্ট থাকবে তাতে জেলার অর্ধেক পরিমান বালাম বহি রাখায় কঠিন হয়ে পড়বে। সেখানে রেজিষ্ট্রি অফিসের স্থায়ী অস্থায়ী দেড় শতাধিক কর্মচারীরা কোথায় বসে কাজ করবেন, দেড় শতাধিক দলিল লেখক, অর্ধশত স্ট্যাম্প ভেন্ডারগণ কোথায় বসবেন তার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি অপরিকল্পিত এ্ই ভবনে। এছাড়াও প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত প্রায় পাচ শতাধিক জনসাধারণ কোথায় বসে দলিল লিখে ও সম্পাদন করে নিবেন তার কোন জায়গা রাখা হয়নি। এছাড়াও জনসাধারনের গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়নি অপরিকল্পিত এই ভবনে। অপরিকল্পিতভাবে জেলা রেজিষ্্রটার কার্যালয় নির্মান করা হলে যাদের জন্য এই ভবনটি নির্মান করা হচ্ছে সেই সাধারণ জনগণ সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃতপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ জনগণ। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: বাকী উল্লাহ্ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অপরিকল্পিত নয়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার এর চারতলা বিশিষ্ট কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। নকশা পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (আইজিআর) খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ও আইন বিচার শাখার সচিব আবু সালেহ মো: শেখ মো: জহিরুল হক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার এর কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। তারা আশা করছেন আগামী চার/পাঁচ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে অফিসটি উদ্বোধন করে দিতে পারবেন। দুই ছাদ ও ২১৫০ স্কয়ার ফিট আয়তন বিশিষ্ট মহাফেজখানা নির্মান হচ্ছে। তিনি বলেন, এতে কি পরিমান বালাম বহি রাখা যাবে এ ব্যাপারে তার ধারনা নেই। বগুড়ার জেলা রেজিস্ট্রার মো: রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বগুড়ায় নতুন এসেছেন। এ ব্যাপারে তার কোন ধারনা নেই। তবে পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া জেলা রেজিস্ট্রার এর কার্যালয় ভবন নির্মাণ করা হলে তা অত্যন্ত দু:খজনক। বগুড়া জেলা দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক মো: হাফিজুর রহমান ও ১নং যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হালিম জানান, বগুড়া সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত দেড় শতাধিক দলিল লেখকগণের সার্বিক সহযোগিতায় সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এজন্য দলিল লেখকগণ যাতে চেয়ার টেবিল বসিয়ে দলিল লিখতে পারে তার ব্যবস্থা রাখা জরুরী বলে তারা মনে করি।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com