Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে বগুড়ার বারপুরে ভুক্তভোগীদের মানব বন্ধন

জনি / ৪১৪
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়াঃ সাধারন মানুষদের জিম্মি করে টাকা আদায় করার অভিযোগে ও নানাবিধ অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিচারের দাবীতে বগুড়া সদরের বারপুর উত্তরপাড়ার ভুক্তভোগী একদল নারী পুরুষ স্থানীয় সজল নৃত্যালয়ের পরিচালক সাফায়াত সজলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে। অভিযোগ উঠেছে এলাকার সাধারণ লোকজনদেরকে জিম্মি করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন সাফায়াত সজল। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বারপুর উত্তর পাড়ার ব্যবসায়ী আবুল কালাম নয়ন জানান, গ্রামের সাধারণ মানুষদের পুলিশ ও সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন সজল। এলাকার কারও বাড়িতে পারিবারিক ঝগড়া বিবাদ লাগলে সেখানে তিনি হাজির হয়ে পুলিশিং কমিটির সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে উভয়পক্ষের নিকট থেকে টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীদের অনেকে। মানববন্ধনে উপস্থিত সারওয়ার হোসেনের স্ত্রী মেরিনা বেগম জানান, আমার পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সজল আমার পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে থানায় নিয়ে যেয়ে অভিযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। আজমল হোসানের স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, সজল আমার কাছ থেকে সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেছে। এলাকার মাকসুদা নামে একজন বিধবা মহিলা জানান, আমার নামে আসা ৫০০ টাকা সজল আত্মসাৎ করেছে। রুহুল আমিনের স্ত্রী হাসু বিবি জানান, আমার স্বামীকে ভুলিয়ে তার সাথে নিয়ে বিভিন্ন মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে দিয়ে আমাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেছে সজল। গত বুধবার বারপুর এলাকায় একজন ছেলে তার ফুফাত বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সজল ও তার সহযোগীরা বাড়ির বাহিরে তালা দিয়ে তাদের নিকট তিন লক্ষ টাকা দাবী করে। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সজল ও তার সহযোগীরা ফিরে যায়। এর আগে এই সজল বগুড়া সদর থানার এস আই ফয়সাল এর দামী একটি মোবাইল সেট চুরি করে মহাস্থানের জনৈক এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে । এসআই ফয়সাল এ ব্যাপারে মামলা করলে সজলের নিকট থেকে মোবাইলটির ক্রেতা মহাস্থানের জনৈক এক সংবাদ কর্মী দীর্ঘদিন হাজত খাটে।
এছাড়াও সজল মাটিডালীর হোটেল ব্যবসায়ী বক্করের কাছে গিয়ে নিজেকে এসপি ও ম্যাজিস্ট্রেটের সোর্স পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের অতি কাছের লোক পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করেন। বৃহস্পতিবারের বারপুর গ্রামে ফুফাত বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা মামাত ভাইকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ঘটনার প্রতিবাদে ও ঘটনার সাথে জড়িত সজলসহ সকলের বিচারের দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালনকালে সাফায়াত সজলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা সাফায়াত সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবী করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাফায়াত সজল বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার আমি। কিছু লোকের ব্যক্তি স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় তারা তাদের পক্ষের কয়েকজন মানুষদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথিত মানববন্ধন করায়। আমার নামে মিথ্যা তথ্য লিখে আমার মান সম্মানহানীকর বক্তব্য লিখে ফেসবুকে প্রচার করেছে। সজল জানায়, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com