Logo
বিজ্ঞপ্তি
DBC বাংলা News এর জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

করোনায় দেশে ২২ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে

/ ১০৩
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন মহাসংকটজনক পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা অস্বাভাবিক বিরূপ অবস্থায় পড়েছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারানো ও বিরাট সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারানো শংকা রয়েছে, যা ২২ লক্ষ হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ‘প্রাক বাজেট পর্যালোচনা: কোভিড-১৯ সমন্বিত সামাজিক উন্নয়নমূলক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ সম্পর্কিত ওয়েবেনারে এসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব বিজনেসের বর্তমান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এসব বিষয় তুলে ধরেন।

প্রাক বাজেট পর্যালোচনা সম্পর্কিত ওয়েবেনারটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের ঢাকাস্থ লিয়াজোঁ অফিসে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হয়।

ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, এমিনেন্স এসোসিয়েট ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ও ডিজিটাল হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক যুগান্তর, দ্য ডেইলি নিউ ন্যাশন, দ্য ডেইলি সান, দ্যা এশিয়ান এজ, ও যমুনা টিভি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বর্তমান বাজেটে যে বিষয়গুলো মনোযোগ দিতে হবে, তার মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

ওয়েবেনারে বক্তারা বাংলাদেশে অতীতের বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করে আগামী বাজেটে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বাজেট হলো পরিকল্পনার সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রকাশ। যার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের স্বপ্ন, দর্শন, ও কল্যাণকর চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের অর্জনগুলোর মধ্যে কতিপয় হলো-মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলারে (মার্চ ২০২০) উন্নীত, দারিদ্র্যসীমা ৯.২%-এ নামা (২০১৯), বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, মূল্যস্ফীতির সন্তোষজনকহারে ৫.৬০% ( মার্চ ২০২০) থাকা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ হওয়া, বেকারত্বের হার ৪.২৯% হওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করার সাফল্যসহ নানান দিক তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, এছাড়াও দেশের ৭৪% পরিবারের আয় কমা, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ দারিদ্র্য সীমায় নেমে গিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ চরম দরিদ্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাত পণ্যের অর্ডার হারানো এবং স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং অদক্ষতার চিত্র আমাদের সামনে প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি চলমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিনিয়তই উন্নয়ন বাজেট ও তাদের অন্যান্য কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক পোশাক শিল্প ও কৃষি খাতসহ অন্যান্য জরুরি খাতের জন্য ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা, নতুন করে ৫০ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া, আয় হারানো পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য তিনি বলেন, আয় বৈষম্য কমিয়ে সুষম বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দারিদ্র্য শূন্য করার পথে এগিয়ে যাওয়া, সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ যাতে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করা, পুঁজি হারানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বল্প বা বিনা সুদে জামানত ছাড়া ঋণ দেয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া ১ হাজার ১২৬টি কারখানা চালু করার জন্য প্রণোদনা দেয়া, প্রবাস ফেরত ১৪ লাখের মতো প্রবাসী শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো, কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণ, জমির ব্যবহার ও আওতা বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে বাজেটে প্রতিফলন হলে বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাস্থ্য অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন নারীর ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাল হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হামিদ, (এল পি আর) ডিজিটাল হেলথকেয়ারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন।

প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রণয়ন টেলিমেডিসিন সেবা নেয়ার জন্য জনগণকে সম্যক জ্ঞান দান ও উদ্বুদ্ধ করণ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ডিজিটাল ইনফরমেশন সেন্টারের সাথে ডাক্তারদের যোগাযোগ স্থাপন করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ করেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, কলেজ অব বিজনেস এডমেনিস্ট্রেশন-এর এসোসিয়েট প্রফেসর ডক্টর তানভীর আবিরের উপস্থাপনায় ওয়েবেনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, প্রফেসর তাসবিরুল ইসলাম, ড.সাবের আহমেদ চৌধুরী, শামীম তালুকদার,মধুসূধন মণ্ডল, এ আর. ফররুখ আহমাদ, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন হেলালী, আহমেদ খান, দেওয়ান মুহাম্মদ নূর, রোমানা পাপড়ি, মো. হাবিব।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও
Theme Created By ThemesDealer.Com